শাস্ত্রীয় নৃত্যকলা

শাস্ত্রীয় নৃত্যকলা

ভারতে নৃত্য অনেক ধরনের নৃত্য নিয়ে গঠিত, যা সাধারণত ধ্রুপদী বা লোক নৃত্য হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ। ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যান্য দিকের মতো, ভারতের বিভিন্নি স্থানে বিভিন্ন প্রকারের নৃত্যের উদ্ভব হয়েছে। 

ভারতে নাচের উৎপত্তি হয়েছে প্রাচীন কালে। বেদে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সাথে অনেক শিল্পকলাকে সংযুক্ত করা হয়েছে যেমন নাটকে, যেখানে দেবতাদের প্রশংসা কেবল শুধু আবৃত্তি করা বা গাওয়া হয় না বরং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিষয় নাটকীয় উপস্থাপনায় সংলাপ আকারে বলা হয়।শতপথ ব্রাহ্মণের (৮০০-৭০০ খ্রিস্টপূর্ব) সাংস্কৃতিক শ্লোক ১৩.২ টি দুই অভিনেতার মধ্যে একটি নাটক আকারে লেখা হয়েছে।

বৈদিক উৎসর্গের অনুষ্ঠানকে যজ্ঞ এক ধরনের যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে এর অভিনয়, এর সংলাপ, এর অংশকে এর গর্ভাভিনয় ও চরম মুহূর্ত অনুসারে নির্ধারণ করা হয়।

ভারতের ধ্রুপদী নৃত্য একপ্রকারে নৃত্য-নাট্যের সৃষ্টি করেছে যা নিজে একটি পরিপূর্ণ থিয়েটার। নৃত্যশিল্পীরা শুধুমাত্র অঙ্গভঙ্গি দ্বারা একটি গল্প উপস্থাপন করে। ভারতের ধ্রুপদী নৃত্যের অধিকাংশই হিন্দু পুরাণের গল্প উপস্থাপন করে। প্রতিটি নৃত্যই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের তত্ত্ব ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে।

ধ্রুপদী হিসেবে বিবেচিত হবার প্রধান মানদণ্ড হচ্ছে নাট্য শাস্ত্রে উল্লেখিত নির্দেশিকা মেনে চলা, যা ভারতীয় অভিনয় শিল্প ব্যাখ্যা করে।সংগীত নাটক একাডেমী ৮ প্রকারের ভারতের ধ্রুপদী নৃত্যকে ধ্রুপদী নৃত্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়: ভরতনাট্যম (তামলি নাড়ু), কত্থক (উত্তর, পশ্চমি ও মধ্য ভারত), কথাকলি (করেল), কুচিপুডি (অন্ধ্র প্রদশে),ওড়িশি (ওড়িশ্), মণিপুরি (মণিপুর), মোহিনীঅট্টম (করেল), এবং সত্রীয়া (আসাম)।

ভারতরে সকল শাস্ত্রীয় নৃত্যকলার অলঙ্করণ করেছেন- আবু ইবনে রাফি।

 

শাস্ত্রীয় নৃত্যকলা

ভরতনাট্যম: ভরতমুনির নামানুসারে প্রচলিত নৃত্য। ভাব, রস ও তালের সমন্বয় এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। সর্বাপেক্ষা লালিত্যযুক্ত ও লাবণ্যমন্ডিত নৃত্যধারা হিসেবে ভরতনাট্যম ভারতীয় নৃত্যে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এ নৃত্যে শিল্পীর নানা অভিব্যক্তি বিভিন্ন মুদ্রায় বিভিন্ন অর্থ বহন করে। দৃষ্টি নিক্ষেপের মাধ্যমে লজ্জা ও উপেক্ষা, ভ্রূ-বিক্ষেপে ভয় ও সন্দেহসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিক্ষেপে মনের সূক্ষ্ম অনুভূতি এতে প্রকাশ পায়। এক কথায় বলা যায় যে, ভরতনাট্যম অনেক শিল্পকলার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এ নৃত্য শিল্পকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুষঙ্গ বা অন্তর্নিহিত ভাব ও আবেগকে দেয় প্রতীকী রূপ। তাই গাম্ভীর্য ও শৈলীর বাস্তবতা ভরতনাট্যমকে সুষমামন্ডিত করেছে। এ নৃত্যে প্রচন্ড শরীর-ঝাঁকুনি ও লম্ফ-ঝম্পের অবকাশ নেই। এতে সব কিছুই পরিমিত। এ নৃত্য ছন্দোময় কৌশল এবং আবেগপূর্ণ অনুভূতিকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করে।

শাস্ত্রীয় নৃত্যকলা

ওড়িশি: ওড়িশি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় রাষ্ট্র উড়িষ্যার হিন্দু মন্দির হতে উত্পত্তি হয়েছে। ওড়িশি, তার ইতিহাসে,প্রধানত নারী দ্বারা সঞ্চালিত হত, এবং ধর্মীয় গল্প এবং আধ্যাত্মিক ধারণা বিশেষ করে বৈষ্ণব (জগন্নাথ যেমন বিষ্ণু) কিন্তু এর পাশাপাশি অন্যান্য যেমন হিন্দু দেবতা শিব ও সূর্য এবং হিন্দু দেবী (শাক্তধর্ম) সম্পর্কিত ঐতিহ্য প্রকাশ করতো। ওড়িশি ঐতিহ্যগতভাবে নাট্যকলার একটি নাচ-নাটক রীতি, যেখানে শিল্পী এবং সঙ্গীতশিল্পীরা একটি পৌরাণিক কাহিনী যেমন একটি আধ্যাত্মিক বার্তা বা হিন্দু গ্রন্থে থেকে ভক্তিমুলক কবিতা, প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য অনুযায়ী প্রতীকী পরিচ্ছদ, অভিনয় (অভিব্যক্তি) এবং মুদ্রার (অঙ্গভঙ্গি এবং চিহ্ন ভাষা) মাধ্যমে অভিনয় করে বলতে থাকেন।

শাস্ত্রীয় নৃত্যকলা

মোহিনীঅট্টম: মোহিনীঅট্টম কেরালা রাজ্য থেকে বিকশিত হয়েছে , যার নামকরণ করা হয়েছে বিষ্ণুর সম্মোহিনী অবতার মোহিনী থেকে, যিনি হিন্দু পুরাণ মতে তার সম্মোহিনী শক্তি ব্যবহার করে ভালো এবং মন্দের মধ্যে যুদ্ধে দেবতাদের জয়ী হতে সাহায্য করেছিলেন। মোহিনীঅট্টম নাট্য শাস্ত্রে বর্ণিত লাস্য শৈলী অনুসরণ করে, একটি নাচ যা নাজুক, নমনীয় চলন এবং মেয়েলী ভাবে নাচা হয়। এটা ঐতিহ্যগতভাবে একটি একক নাচ যা ব্যাপক প্রশিক্ষণের পরে নারীদের দ্বারা নাচা হয়। মোহিনীঅট্টম সাধারণত আবৃত্তি সহ সোপান (ধীর সুর) শৈলীর গানের সাথে বিশুদ্ধ এবং ভাবপূর্ণ নৃত্য-নাট্য হিসেবে মঞ্চস্থ করা হয়। গীতিকাগুলি সংস্কৃত ও মালয়ালম ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত মণিপ্রভালম-এ রচিত.